
[MAGAZINE KAVE=প্রতিবেদক সিও ইনহে] মঞ্চে কখনো না-ওঠা প্রতিযোগী আর এরই মধ্যে অভিষেক হওয়া আইডল একই শুরু-রেখায় দাঁড়াচ্ছেন। একজন গায়িকা হওয়ার জন্য চাকরি ছেড়েছেন, আরেকজন পেছনে ফেলে এসেছেন তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় হিসেবে কাটানো সময়। অন্য এক প্রতিযোগী এরই মধ্যে গার্ল গ্রুপের সদস্য হিসেবে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন।
এবার সবাইকেই নতুন করে মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে হবে।
এটাই ENA-র ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া গ্লোবাল মিউজিক অডিশন ‘মিস্টিক: আগামীর তারকাকে গড়ে তোলা’-এর গল্প।
কোরিয়া ও চীন থেকে বাছাই করা হয়েছে মোট ২১ জন প্রতিযোগী। কারার নিকোল, ২NE1-এর সানদারা পার্ক এবং কেপলারের শাওটিং সঞ্চালনা করবেন। ‘স্টার মেকার’ হিসেবে থাকছেন ৮ জন—লি ইয়ং-হিয়ন, জো কওন, হুই, কাং সেউং-ইউন, সলজি, ইউজু, জ্যাং রিন এবং সানি লুকাস।
জাঁকজমকপূর্ণ প্রতিযোগী ও তারকাদের তালিকা দেখে পরিচিত কে-পপ অডিশনের ছক মনে হতে পারে। তবে এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
২১ জনের মধ্যে বর্তমান গার্ল গ্রুপের সদস্য কে? বিদেশি ভক্তরাও কি ভোট দিতে পারবেন? চূড়ান্ত নির্বাচিতরা কি নতুন গ্রুপ হিসেবে অভিষেক করবেন? আর বিশ্বের ভক্তরা কোথায় অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন?
এই চার প্রশ্ন শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়; ‘মিস্টিক’ সত্যিকারের গ্লোবাল অডিশন হয়ে উঠতে পারবে কি না, তা বিচারের মাপকাঠিও।
বর্তমান আইডলরাও আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায়…‘২১ জনের’ শুরু কি সত্যিই সমান?
ENA-র প্রকাশ করা প্রতিযোগীদের পরিচিতিতে সবচেয়ে চোখে পড়ার বিষয় হলো, বর্তমান গার্ল গ্রুপের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন।
প্রযোজনা দলের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক হাজার আবেদনকারীর মধ্যে থেকে বাছাই করে প্রতিযোগীদের নেওয়া হয়েছে। বর্তমান গার্ল গ্রুপের সদস্য থেকে শুরু করে অফিসকর্মী ও সাবেক তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়—তাঁদের অভিজ্ঞতা নানা রকম। মঞ্চভীতি, চেহারা নিয়ে হীনম্মন্যতা ও নিগ্রহের অভিজ্ঞতা কাটিয়ে মঞ্চে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন এমন প্রতিযোগীও আছেন।
তবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ENA-র আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান পরিচিতি ও সেদিন প্রকাশিত তথ্যে বর্তমান গার্ল গ্রুপের সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ২১ প্রতিযোগীর পূর্ণ তালিকা এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতার বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি।
তাই কোনো নির্দিষ্ট গার্ল গ্রুপের সদস্যকে প্রতিযোগী বলে শনাক্ত করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখনো নেই।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রতিযোগীদের কোন মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হবে।
আগে থেকেই অভিষেক হওয়া আইডলদের পেশাদার মঞ্চ-অভিজ্ঞতা ও ভক্তগোষ্ঠী থাকতে পারে। অন্যদিকে, পেশাদার শিল্পী নন এমন প্রতিযোগীদের শক্তি হতে পারে তাঁদের বিকাশের সম্ভাবনা ও নতুন সংগীতধারা।
বর্তমান দক্ষতাকে মূল্যায়ন করা হলে অভিজ্ঞ প্রতিযোগীরা এগিয়ে থাকতে পারেন। বিপরীতে, অল্প সময়ে কে কতটা উন্নতি করেছেন, সেটিকে গুরুত্ব দিলে মূল্যায়নের ফল ভিন্ন হতে পারে।
এই পার্থক্য কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, ‘মিস্টিক’ এখনো তার বিস্তারিত বিচারমানদণ্ড প্রকাশ করেনি।
সম্প্রতি প্রথম ব্লাইন্ড টেস্টের শুটিং হয়েছে বলে জানা গেলেও, মূল্যায়নের সময় প্রতিযোগীদের পরিচয় ও অভিজ্ঞতার কোন তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
তাই প্রথম দেখার বিষয় প্রতিযোগীদের মধ্যে কে বিখ্যাত, তা নয়; বরং ভিন্ন অভিজ্ঞতার ২১ জনের জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন-মানদণ্ড তুলে ধরা হয়—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
সঞ্চালকের আসনে শাওটিং…প্রতিযোগী থেকে নতুনদের পথ দেখানোয়
‘মিস্টিক’-এর তিন সঞ্চালক কে-পপের ভিন্ন প্রজন্ম ও বিদেশি বাজারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেন।
কারার সদস্য হিসেবে নিকোল কে-পপের দ্বিতীয় প্রজন্মের বিদেশে প্রসারের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। 2NE1-এর সঙ্গে কাজ করে সানদারা পার্ক কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ভক্তগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন।
অন্য অর্থে প্রতীকী চরিত্র শাওটিং।
২০২১ সালে কোরিয়া, চীন ও জাপানের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে ‘গার্লস প্ল্যানেট ৯৯৯’-এর মাধ্যমে তিনি কেপলারের সদস্য হিসেবে অভিষেক করেন। ভাষা ও সংস্কৃতিতে ভিন্ন প্রতিযোগীরা একটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে।
এবার শাওটিং প্রতিযোগী হিসেবে নয়, সঞ্চালক হিসেবে ফিরেছেন।
নিজের জায়গা পেতে যিনি মূল্যায়নের মুখোমুখি হয়েছিলেন, এবার নতুন প্রতিযোগীদের মঞ্চের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ভূমিকায় তিনি।
চীনা প্রতিযোগীদের জন্যও এই অভিজ্ঞতার তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, কোরিয়ার আইডল ব্যবস্থায় কাজ করা চীনা বংশোদ্ভূত একজন শিল্পী অনুষ্ঠানের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকছেন।
তবে শুধু পরিচিত বিশ্বতারকাকে সঞ্চালক করলেই কোনো অনুষ্ঠান বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করে না।
বিদেশি ভক্তদের জন্য ভাষাগত সহায়তা, পরিবেশনার ভিডিও দেখার সুযোগ, নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া এবং ভক্তদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা—সবই থাকা দরকার।
বিশ্বের নানা প্রান্তের তারকাদের অনুষ্ঠানে আনা আর বিশ্বজুড়ে দর্শকদের সত্যিকারের অংশগ্রহণকারী করে তোলা—দুটি ভিন্ন কাজ।
গ্লোবাল ভোটের ২১ লাখ ৭০ হাজারের নজির…‘মিস্টিক’-এও কি সম্ভব?
বিদেশি ভক্তদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পূর্ব অভিজ্ঞতা ENA-র রয়েছে।
গত জুনে প্রচারিত বিকাশভিত্তিক সংগীত প্রকল্প ‘দ্য স্কাউট: আবার জন্ম নিচ্ছে তারকা’ সেই নজির।
ENA-র ১৬ জুন প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, ‘দ্য স্কাউট’-এ বিশ্বজুড়ে মোট ২১ লাখ ৭০ হাজার ৬৯৩টি ভোট পড়েছিল।
এই সংখ্যা ভোটে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র ব্যক্তির সংখ্যা ২১ লাখ—এমনটা বোঝায় না। একজন একাধিকবার ভোট দিয়ে থাকতে পারেন; এটি মোট ভোটের সংখ্যা।
তবু এই নজির দেখায়, বিদেশি ভক্তরা কোরিয়ার সংগীত অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন।
বিশেষ করে, কোরীয় বাবা ও পেরুভীয় মায়ের সন্তান প্রতিযোগী ইসান লাতিন আমেরিকার ভক্তদের আগ্রহ পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। তাঁর জাতীয়তা, পারিবারিক পটভূমি ও ব্যক্তিগত গল্প যে বিদেশি ভক্তদের অংশগ্রহণে উৎসাহ জোগাতে পারে, এ ঘটনা সেই সম্ভাবনা দেখিয়েছে।
দুটি অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রযোজনা দলের সংযোগও রয়েছে।
ENA-র আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘দ্য স্কাউট’ ও ‘মিস্টিক’—দুই অনুষ্ঠানেই প্রযোজনা দলের সদস্য হিসেবে চূই জং-হুনের নাম রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আগের অনুষ্ঠানে অর্জিত বৈশ্বিক অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ‘মিস্টিক’ কীভাবে কাজে লাগায়, তা দেখার বিষয়।
তবে আগের অনুষ্ঠানের সাফল্য থেকেই নতুন অনুষ্ঠানের পরিচালনাপদ্ধতি একই হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘মিস্টিক’-এর গ্লোবাল ভোটিং প্ল্যাটফর্ম, কোন কোন দেশ থেকে অংশ নেওয়া যাবে, ভোটের সর্বোচ্চ সীমা কিংবা নম্বরে ভোটের ওজন—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।
বিদেশি ভক্তরা কেবল দর্শক থাকবেন, নাকি চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলার মতো অংশগ্রহণকারী হবেন—তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এখানেই প্রশ্ন ওঠে।
বিদেশি ভক্তগোষ্ঠী গড়ে তোলাই যদি লক্ষ্য হয়, তবে তাদের কী ধরনের অংশগ্রহণের অধিকার দেওয়া হবে?
কে-পপ অডিশনে ভোট কেবল একটি বাড়তি সুবিধা নয়। এর সঙ্গে প্রতিযোগীদের দর্শকদের কাছে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরা ও ভক্তগোষ্ঠী গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও জড়িত।
বিদেশি ভোট চালু হলে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ এবং ভোটের নিরপেক্ষতা নতুন বিতর্কের বিষয় হতে পারে। বিপরীতে, ভোট ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিলে সেই সিদ্ধান্তের কারণ ও মানদণ্ড স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
যে পদ্ধতিই নেওয়া হোক, অংশগ্রহণের নিয়ম স্বচ্ছ হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।
‘আগামীর তারকা’ কী পাবে…অভিষেকের শর্ত এখনো নিশ্চিত নয়
‘মিস্টিক’ নিজেকে সর্বাঙ্গীণ তারকা গড়ে তোলার সারভাইভাল শো হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু ‘তারকা তৈরি করা’—এই বর্ণনা থেকে অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা জানা যায় না।
আগের আইডল অডিশনগুলোতে বিজয়ী বা চূড়ান্ত নির্বাচিতরা প্রায়ই প্রজেক্ট গ্রুপ হিসেবে অভিষেক করেছেন। তবে ‘মিস্টিক’-এর আনুষ্ঠানিক পরিচিতিতে চূড়ান্ত নির্বাচিতের সংখ্যা কিংবা অভিষেকের ধরন এখনো নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
চূড়ান্ত নির্বাচিতরা নতুন গ্রুপ গড়বেন, একক শিল্পী হিসেবে কাজ করবেন, নাকি কোনো সংস্থার সঙ্গে একচ্ছত্র চুক্তি করবেন—কোনোটিই নিশ্চিত নয়।
অভিষেকের সুযোগ, চুক্তির মেয়াদ, সংগীত তৈরির সহায়তা ও বিদেশে কার্যক্রমের পরিকল্পনা সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক তথ্য অপর্যাপ্ত।
এই বিষয়টি প্রতিযোগী ও দর্শক—উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
অডিশনের প্রতিযোগিতা যত জাঁকজমকপূর্ণই হোক, শেষে কী সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর অনুষ্ঠানের অর্থ বদলে যায়।
বর্তমান আইডলদের জন্য এটি নতুন সংগীতধারায় মোড় নেওয়ার সুযোগ হতে পারে। পেশাদার শিল্পী নন এমন প্রতিযোগীদের জন্য এটি জীবনে প্রথম পেশাদার সংগীতচর্চার সুযোগও হতে পারে।
তবে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তব কাজের সুযোগে রূপ দিতে হলে মঞ্চের পরের পরিকল্পনাও দরকার।
‘কে জিতবে’—তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ‘জেতার পর কী বদলাবে?’
‘মিস্টিক’-এর চূড়ান্ত পুরস্কার ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রকাশিত হলে অনুষ্ঠানটির শিল্প-বাণিজ্যিক বাস্তবতাও আরও স্পষ্ট হবে।
৮ বিচারক কি দক্ষতার চেয়ে বিকাশের সম্ভাবনা দেখবেন?
‘মিস্টিক’-এর বিচারক দলে সংগীতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।
বিগ মামার লি ইয়ং-হিয়ন ও EXID-এর সলজি কণ্ঠের দক্ষতা মূল্যায়ন করতে পারবেন। 2AM-এর জো কওন এবং গার্লফ্রেন্ডের সাবেক সদস্য ইউজুর রয়েছে দীর্ঘ মঞ্চ-অভিজ্ঞতা।
পেন্টাগনের হুই ও উইনারের কাং সেউং-ইউনের রয়েছে গান লেখা, সুর করা ও সংগীত প্রযোজনার অভিজ্ঞতা। বিচারক দলে যোগ দিয়েছেন জ্যাং রিন ও সানি লুকাসও।
তাঁদের অংশগ্রহণ থেকে মনে হয়, প্রতিযোগীদের কণ্ঠের দক্ষতার পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থাপনা, সংগীতের নিজস্বতা এবং ভবিষ্যৎ বিকাশের সম্ভাবনাও মূল্যায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রত্যেক বিচারককে কী ধরনের মূল্যায়নের ক্ষমতা দেওয়া হবে, এবং বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ও ভক্তদের ভোট কী অনুপাতে বিবেচিত হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশেষ করে, প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সংকটকে গুরুত্ব দেওয়া অনুষ্ঠানের প্রচারের ধরন সতর্কতার সঙ্গে সামলানো দরকার।
মঞ্চভীতি কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একজন প্রতিযোগীর গল্পকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত কষ্ট যেন সংগীতের দক্ষতার বিকল্প মূল্যায়ন-মানদণ্ড না হয়ে দাঁড়ায়।
সত্যিকারের বিকাশভিত্তিক অডিশনে অতীতের কষ্ট কতটা নাটকীয়, তার চেয়ে বাস্তব মঞ্চে কী পরিবর্তন এসেছে, তা দেখানো উচিত।
‘অসম্পূর্ণ রত্ন খুঁজে বের করা’—অনুষ্ঠানের এই পরিকল্পনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার পথ সেটিই।
প্রথম সম্প্রচার ১৭ নভেম্বর…গ্লোবাল অনুষ্ঠান, কিন্তু বিদেশে কোথায় দেখা যাবে?
ENA-র আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘মিস্টিক: আগামীর তারকাকে গড়ে তোলা’ প্রথম সম্প্রচার হবে মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ২০ মিনিটে।
কোরিয়ায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করবে ENA।
তবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বিদেশি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং কোন কোন দেশে অনুষ্ঠানটি দেখা যাবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
ইংরেজি, চীনা বা অন্য ভাষার সাবটাইটেল কবে পাওয়া যাবে, সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি।
গ্লোবাল অডিশন হিসেবে পরিচিতি পাওয়া অনুষ্ঠানের জন্য বিষয়টি ছোট নয়।
বিদেশি ভক্তরা সময়মতো আনুষ্ঠানিক ভিডিও দেখতে না পারলে প্রতিযোগীদের দক্ষতা ও বিকাশের পুরো প্রক্রিয়া বোঝা কঠিন হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছোট ভিডিও দিয়ে কোনো প্রতিযোগী আলোচনায় আসতে পারেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট বোঝাতে হলে পুরো পরিবেশনা, বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রতিযোগীদের বিকাশের যাত্রা একসঙ্গে তুলে ধরতে হবে।
সময়-অঞ্চলের পার্থক্য মাথায় রেখে ভিডিও প্রকাশের সময়সূচি, বহু ভাষার সাবটাইটেল ও আনুষ্ঠানিক ক্লিপ ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল বিদেশি ভক্তগোষ্ঠী ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে।
সম্প্রচারক ও প্রযোজনা দল যদি বৈশ্বিক বাজারকে লক্ষ্য করে, তবে শুধু প্রতিযোগীদের জাতীয়তার মাধ্যমে নয়, কনটেন্ট বিতরণের পদ্ধতির মাধ্যমেও সেই লক্ষ্য প্রমাণ করতে হবে।
কে-পপের বিশ্বায়নের পরবর্তী পরীক্ষা…তারকা খোঁজার পদ্ধতিও বদলাতে হবে
কে-পপ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে সংগীতের বাজার গড়ে তুলেছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী ভক্তগোষ্ঠী পাওয়া আর সেই ভক্তদের আস্থা অর্জন করতে পারে এমন অডিশনব্যবস্থা গড়ে তোলা এক বিষয় নয়।
‘মিস্টিক’-এর শুরুতেই রয়েছে কোরিয়া ও চীনের ২১ প্রতিযোগী, কে-পপের ভিন্ন প্রজন্মের তিন তারকা এবং আট বিচারক।
বর্তমান আইডল ও পেশাদার শিল্পী নন—এমন প্রতিযোগীদের একসঙ্গে লড়াইয়ের ব্যবস্থাটিও আকর্ষণীয়।
কিন্তু অনুষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে অন্য কিছুর ওপর।
কারা অংশ নিচ্ছেন, কোন মানদণ্ডে তাঁদের মূল্যায়ন হবে, বিদেশি ভক্তরা কীভাবে অংশ নেবেন এবং চূড়ান্ত নির্বাচিতদের জন্য কী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে—এসব কতটা স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, সেটিই আসল।
ENA-র আগের অনুষ্ঠান ‘দ্য স্কাউট’ বিশ্বজুড়ে মোট ২১ লাখ ভোটের মাধ্যমে বিদেশি ভক্তদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল। ‘মিস্টিক’-এর সামনে এখন সেই অভিজ্ঞতাকে অনুষ্ঠানের বাস্তব পরিচালনা ও শিল্পী গড়ে তোলার কাজে যুক্ত করার চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বমানের অডিশনের আসল উদ্দেশ্য বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের একই মঞ্চে দাঁড় করানোতেই শেষ হয় না। ভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকরা যেন একই নিয়ম বুঝতে পারেন, একই পরিবেশনার মূল্যায়ন করতে পারেন এবং ফলাফলে আস্থা রাখতে পারেন—সেটিও নিশ্চিত করতে হয়।
‘মিস্টিক’ পরবর্তী প্রজন্মের বিশ্বতারকা খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছে। এখন দরকার—কোন মানদণ্ডে সেই তারকাকে বেছে নেওয়া হবে, আর কোন মঞ্চে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে, তার উত্তর।

